রংপুর, ১৮ আগস্ট ২০২৬: তফসিল ঘোষণা না হলেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ কয়েকটি দলের একাধিক নেতা মেয়র পদে মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে তফসিল ঘোষণার আগেই রংপুর সিটি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ টি এম আজম খান
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এ টি এম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত ১৫ মে রংপুরে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নাম ঘোষণা করেন।
দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর আজম খানকে ঘিরে জামায়াতের সাংগঠনিক তৎপরতাও বাড়ছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিএনপিতে আলোচনায় তিন নেতাঃ
রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তিনজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন—মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও রসিকের বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম মিজু এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. সামসুজ্জামান সামু।
মাহফুজ উন নবী ডন বর্তমানে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নগরীকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে শহিদুল ইসলাম মিজুও দীর্ঘদিন ধরে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহ প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও গণসংযোগে সক্রিয় রয়েছেন। জুন মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রংপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডন ও মিজুর নামসহ বিএনপির তিনজনের কথা উঠে আসে।
বিএনপির আরেক আলোচিত নেতা মো. সামসুজ্জামান সামু বর্তমানে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, ওই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) বিজয়ী হন এবং সামসুজ্জামান সামু নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।
তবে সিটি নির্বাচনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হবেন, তা এখনো দলীয়ভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
জাতীয় পার্টিতে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা
জাতীয় পার্টির হয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তিনি এর আগে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নগর রাজনীতিতে তার দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার কথা আলোচনায় থাকলেও এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া তফসিল ঘোষণার পর আরও স্পষ্ট হবে।
এনসিপিতে এখনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন পর্যন্ত রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র পদে কোনো প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। এর আগে দলটির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছিল। তবে তিনি রংপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।
সারজিস আলম ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির প্রার্থীর কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন।
অন্যান্য দলেও চলছে হিসাব-নিকাশ
এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এখনো রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র পদে আনুষ্ঠানিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।
ফলে বর্তমানে রংপুর সিটি নির্বাচনের মাঠে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দলীয় প্রার্থী হিসেবে যে নামটি সামনে রয়েছে, তিনি জামায়াতে ইসলামীর এ টি এম আজম খান। অন্যদিকে বিএনপির তিন নেতা ও জাতীয় পার্টির সাবেক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনা চলছে।
তবে তফসিল ঘোষণা, দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।