ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম), ১৭ আগস্ট ২০২৬, সোমবার: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উত্তর ধরলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ১০৫ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে ফুল, সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য ও উত্তর ধরলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক।

উত্তর ধরলা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ফেরদৌস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, সুমন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী খাদেমুল ইসলাম, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক এবং সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক আরিফুর রহমান শাহিন।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মেধা ও ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহিত করতেই এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময় তাদের সাফল্যে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিরা আনন্দ প্রকাশ করেন।

সংবর্ধনা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গোল্ডেন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মোছা. শিফা বিনতে সাঈদ সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন। এ অর্জনে তিনি আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

শিফা বিনতে সাঈদের বাবা মো. সাইদুর রহমান, কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং মা মোছা. বিলকিছ খাতুন (বিএসসি), ভূরুঙ্গামারী সিনিয়র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। মেয়ের এই সাফল্যে তারা আনন্দ প্রকাশ করে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

শিফার বাবা-মা বলেন, শুধু তাদের মেয়ের জন্য নয়, দেশের সব মেধাবী শিক্ষার্থীর সফলতা, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করে তারা আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে তারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।