নোয়াখালী, বেগমগঞ্জ | ১৮ আগস্ট ২০২৬ :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় একটি বিয়ের বাড়ির গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় ক্যামেরাম্যানসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মৌশাকপুর গ্রামের হাজীটোলা এলাকায় একটি গায়েহলুদ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে শান্ত, মাহি, জসিম ও সাকিব রয়েছেন। তাদের মধ্যে শান্ত ও মাহির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই আহত জসিম ও সাকিব নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচিত রায়হানের সঙ্গে স্থানীয় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হারুনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার রাতে গায়েহলুদ অনুষ্ঠান চলাকালে হারুন ও রায়হানের মধ্যে মুঠোফোনে বাকবিতণ্ডা ও হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এরপর রায়হান ও তার সহযোগীদের খুঁজতে হারুন সেখানে উপস্থিত হন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনাস্থলে রায়হান বা তার সহযোগীদের না পেয়ে সেখানে উপস্থিত লোকজনকে রায়হানের লোক মনে করে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে চারজন গুলিবিদ্ধ হন।

গুলির ঘটনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্ত ও মাহির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। জসিম ও সাকিব বর্তমানে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে একটি টিম পাঠিয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে জানা যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নোট: হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে স্থানীয় সূত্রে যাদের নাম বা পরিচয় এসেছে, তা এখনো পুলিশের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা সমীচীন নয়।