আশাশুনি (সাতক্ষীরা) | ১৭ আগস্ট ২০২৬: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ তেতুলিয়া-টিকা সড়কের মধ্যবর্তী টিকারামচন্দ্রপুর-কোদালশাহ স্লুইস গেটসংলগ্ন সড়কের একাংশে ধস নেমেছে।
এতে স্লুইস গেটের বাঁশের পাইলিং ও বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ ছুটে গিয়ে কাদাকাটি ও পার্শ্ববর্তী দরগাহপুর ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও অসংখ্য মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে লক্ষাধিক টাকার সম্পদ ও বিপুল পরিমাণ মৎস্যসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে জোয়ারের পানির চাপ বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কোদালশাহ স্লুইস গেটের বাঁশের পাইলিংয়ের একটি অংশ ভেঙে গেছে। একই সঙ্গে সড়কের একাংশ ধসে পানির গর্ভে চলে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও ওই সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল, মোটরভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান, ইজিবাইক, প্রাইভেট কার ও সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয়দের মতে, যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আরও ধস নামতে পারে। এতে যেকোনো সময় সড়কটি পুরোপুরি ধসে গিয়ে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্লুইস গেট ও সড়কের নাজুক পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিন-রাত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একই সঙ্গে বাঁধ ভেঙে গেলে দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও মৎস্যঘের হারানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় শিক্ষক মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “স্লুইস গেটের পাইলিং ও সড়কের অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ছুটে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে মানুষের জানমাল ও মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটি শুধু একটি সড়কের সমস্যা নয়, এর সঙ্গে কয়েকটি গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা ও সম্পদ জড়িত। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এলাকাবাসী জানান, স্লুইস গেট ও সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার, বাঁশের পাইলিং শক্তিশালীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সম্ভাব্য প্লাবন ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তারা দ্রুত প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।