পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ও মর্যাদা বাড়াতে দায়িত্বশীল, মানবিক ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
সোমবার সকালে রংপুর পুলিশ লাইন্স অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আরপিএমপির মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, একজন পুলিশ সদস্যের কথাবার্তা, আচরণ, চলাফেরা এবং দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের প্রতিফলন থাকতে হবে। আইন প্রয়োগের সময় কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অশোভন আচরণ কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা যাবে না। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক, সংযত ও ভদ্র আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে নির্ভর করে মাঠপর্যায়ে সদস্যদের আচরণ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপর। জনগণের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি এবং তাদের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশ সদস্যদের সততা, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, জনবান্ধব পুলিশিং, স্বাস্থ্য সচেতনতা, অনলাইন জুয়া, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ সদস্যদের সমস্যা ও অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শোনার জন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান কমিশনার। তিনি বলেন, সদস্যদের যৌক্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
অনলাইন জুয়া ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেন থেকে পুলিশ সদস্যদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড একজন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই দায়িত্বশীল জীবনযাপন ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সরকারি নির্দেশনা ও প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন পুলিশ কমিশনার। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ঘটনার বিষয়ে মিথ্যা, নেতিবাচক কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত আচরণও পুলিশের সামগ্রিক ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অনলাইনে কোনো তথ্য প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।
দায়িত্ব পালনে দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, প্রশংসাপত্র ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান কমিশনার। ভালো কাজের স্বীকৃতি সদস্যদের পেশাগত উৎসাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জনসেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের নিজস্ব পুলিশ লাইন্স স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ একর জায়গা পাওয়া গেছে। সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করে আরপিএমপির নিজস্ব পুলিশ লাইন্সে স্থানান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এর আগে আরপিএমপির নিজস্ব পুলিশ লাইন্সের জন্য ১০ একর জমি নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য সরকারি আরপিএমপি সূত্রেও প্রকাশিত হয়েছে।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার নরেশ চাকমা ও তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী ও মারুফ আহমেদসহ আরপিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় রংপুর জেলা পুলিশে বদলির আদেশ পাওয়া অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ শরিফুল আলম এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে বদলির আদেশ পাওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ নাজির হোসেনকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। অবসরে যাওয়া সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ রবিউল হাসানকে দেওয়া হয় বিদায়ী সংবর্ধনা।
সভা শেষে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে জনসেবার মান আরও বাড়ানোর মাধ্যমে পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।