কুড়িগ্রাম, উলিপুর | ১৩ আগস্ট ২০২৬: কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক গৃহবধূর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে লিখিত নালিশ করেছেন।

অভিযোগকারী ওই নারী উলিপুর উপজেলার ভেলুর খামার দুর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, একই এলাকার মো. আনারুল ইসলাম (৩০) গোপনে তার গোসলের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।

আদালতে দেওয়া নালিশে ওই নারী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি গোসলের ভিডিও ধারণের পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। একপর্যায়ে ভিডিওটি মুছে দেওয়ার কথা বলে তাকে আরও একটি ভিডিও দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি অভিযুক্তের কথায় একটি ভিডিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগের ভিডিওসহ নতুন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
নালিশে আরও বলা হয়, গত ৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভুক্তভোগী নারী বাড়িতে একা ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি বাড়িতে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং খাটে শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাতে থাকা ছুরি দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি চিৎকার ও বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তাকে হত্যার হুমকি দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ বা অন্য কাউকে জানালে তার গোসলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী ফোন কেটে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে এবং তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন বলে নালিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী বিষয়টি তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানান। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৪ জুলাই থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আদালতের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে নালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর গত ২৩ জুলাই তিনি আদালতে নালিশ দায়ের করেন। নালিশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রতিকার দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আনারুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে আদালতে করা অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের পরই ঘটনার প্রকৃত সত্যতা এবং আইনগত দায় নির্ধারিত হবে।