ঢাকা | ১৩ আগস্ট ২০২৬: রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাফিক পুলিশ ও একটি কথিত দালাল চক্রের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। অটোরিকশা আটকের পর চালকদের কাছ থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায় এবং গাড়ি জব্দের ভয় দেখিয়ে হয়রানির অভিযোগ করছেন কয়েকজন চালক।

স্টাফ রিপোর্টার আরিয়ান ইসলামের ধারণ করা ছবিতে এমন একটি দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি, যেখানে অটোরিকশা আটকের সঙ্গে দালালচক্রের সদস্যদের সম্পৃক্ততা দেখা যায়। তবে ছবির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় বা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, গুলিস্তানের বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের অভিযান চলার সুযোগে একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অটোরিকশা আটকের পর চালকদের সঙ্গে ওই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ করেন এবং অর্থের বিনিময়ে গাড়ি ছাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।

চালকদের দাবি, বৈধ কাগজপত্র বা নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে কোনো গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। কিন্তু আটকের পর দালালদের মাধ্যমে অর্থ দাবি করা হলে এতে সাধারণ ও স্বল্প আয়ের চালকরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

গুলিস্তানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ে এর আগেও নানা সময়ে যানজট ও সড়কশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে গুলিস্তানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

এদিকে অতীতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও দালালদের কথিত যোগসাজশ এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেসব পুরোনো অভিযোগকে বর্তমান ঘটনার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সড়ক পরিবহন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী কোনো যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য বা তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
অটোরিকশাচালকদের দাবি, গুলিস্তান এলাকায় কথিত দালাল চক্রের কার্যক্রম তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হোক। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং নির্দোষ চালকদের হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
তবে এ প্রতিবেদনে উত্থাপিত ট্রাফিক পুলিশ ও দালাল চক্রের যোগসাজশের অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।