সাতক্ষীরা, আশাশুনি | ১২ আগস্ট ২০২৬:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার নদীভাঙনপ্রবণ বিভিন্ন এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাতক্ষীরা এক্সচেঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাজকিন আহমেদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে পাউবো কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়ে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বিষয়টিও পাউবো কর্মকর্তার কাছে তুলে ধরেন এমপি রবিউল বাশার।

এ সময় জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে জনপদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এমপি রবিউল বাশার বলেন, আশাশুনির মানুষের জানমাল এবং কৃষি ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধগুলো দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি যেসব এলাকায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন, সেখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আশাশুনির নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের সময় এসব এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এতে নদীতীরবর্তী জনবসতি, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঁধ দুর্বল থাকলে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেক এলাকায় বাঁধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি মেরামত করতে হয়। তাদের মতে, বারবার সংস্কারের পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে সেখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

মতবিনিময়কালে পাউবোর এসডিও রাশেদুজ্জামান, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের আমির ও সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, নায়েবে আমির ও উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা নুরুল আফসার মুর্তাজা, অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আশাশুনির নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভাঙনপ্রবণ পয়েন্টে স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে জানমাল ও কৃষি-মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।