কচুয়া (চাঁদপুর)| ১২ আগস্ট ২০২৬: ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য সরকারি এককালীন আর্থিক সহায়তা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
১১ জুন ২০২৬ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্যান্সারসহ ছয়টি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের এককালীন সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে জটিল ও ব্যয়বহুল এসব রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। বিদ্যমান কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত রোগীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার বিধান ছিল।
যে ৬ রোগে সহায়তা দেওয়া হবে:
সরকারি এই চিকিৎসা সহায়তার আওতায় রয়েছে—
১. ক্যান্সার
২. কিডনি রোগ বা কিডনি বিকল
৩. লিভার সিরোসিস
৪. স্ট্রোকে প্যারালাইজড বা পক্ষাঘাত
৫. জন্মগত হৃদরোগ
৬. থ্যালাসেমিয়া
সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান নীতিমালায় এসব রোগে আক্রান্ত দরিদ্র রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রোগীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হওয়া এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে বাড়বে সহায়তা:
ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিসসহ এসব রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল। ফলে দরিদ্র পরিবারের জন্য চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা করা হলে এসব পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ৭০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন, ১ লাখ টাকা সহায়তার বিষয়টি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় প্রস্তাবিত/ঘোষিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি নীতিমালা, বরাদ্দ ও প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
সরকারি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত দরিদ্র রোগীরা আগের তুলনায় দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে অসহায় রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।