ঠাকুরগাঁও | ১১ আগস্ট ২০২৬ : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়নের পটুয়া ফেডারেশনে অতি-দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন (ইউপিজি) কর্মসূচির আওতায় ১৩৯ জন নারী উপকারভোগীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর রহিমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান হান্নু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার ডমিনিক বিবেরু। এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন বা ইউপিজি কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অতি-দরিদ্র পরিবারগুলোকে শুধু সাময়িক সহায়তা দেওয়া নয়; বরং তাদের আয়, সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্যের চক্র থেকে বের করে এনে টেকসইভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা।
কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকায়ন উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে পরিবারের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সম্পদ ও সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সামাজিক সেবার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে নারী উপকারভোগীদের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, পরিবারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণে সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অতি-দরিদ্র পরিবারকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনতে শুধু আর্থিক সহায়তা যথেষ্ট নয়। তাদের নিজেদের আয়, সম্পদ ও সঞ্চয় গড়ে তোলার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ইউপিজি কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই পরিবারগুলোকে ধাপে ধাপে স্বাবলম্বী করে তুলতে কাজ করছে।
উপকারভোগীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ১৩৯ জন নারী উপকারভোগীর প্রত্যেকের মাঝে দুটি করে গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ হিসেবে মোট ২৭৮টি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, উপকারভোগীদের বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের এলাকায় এসব চারা রোপণের মাধ্যমে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে ভবিষ্যতে ফলদ ও কাঠজাতীয় গাছের মাধ্যমে পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবেও উপকৃত হতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১৩৯ জন নারী উপকারভোগীর ইউপিজি গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন হওয়া দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।