চুয়াডাঙ্গা, ১১ আগস্ট ২০২৬: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসায় এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ২৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্যে।

স্থানীয় ও মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ২১ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এত সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শিক্ষকদের একটি অংশ নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকেন না এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে প্রত্যাশিত মনোযোগ দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে অবনতি দেখা যাচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহের সময় পাওয়া যায়নি।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসা থেকে মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল শূন্যে নেমে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এরপরও শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং পরীক্ষার ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান করেন না। তাঁর দাবি, শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ কমছে এবং সচেতন অভিভাবকরাও সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী সংকট ও খারাপ ফলাফলের প্রবণতা রয়েছে।
কুড়ুলগাছি দাখিল মাদ্রাসার অস্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান-পরিচয় সরকারি উপজেলা শিক্ষাতথ্য তালিকাতেও পাওয়া যায়; সেখানে প্রতিষ্ঠানটির নাম ও প্রতিষ্ঠান কোড ১১৫৪২৩ উল্লেখ রয়েছে।

ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন:
২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও পাস না করায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফল হলে শুধু শিক্ষার্থীদের দায়ী না করে শিক্ষকতা, একাডেমিক ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় অভিভাবকরা মাদ্রাসাটির ফলাফল পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং ফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।