মানিকগঞ্জ | ১১ আগস্ট ২০২৬: “প্যারাকুয়েটসহ সকল অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক নিষিদ্ধ করো”— এই স্লোগান সামনে রেখে মানিকগঞ্জে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিষাক্ত কীটনাশকমুক্ত কৃষির দাবিতে বেউথা রোডের আরব ভবন সেমিনার রুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জেলা গ্রিন কোয়ালিশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন কচির সভাপতিত্বে এবং বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক মোশামীম বিশ্বাস, গ্রিন কোয়ালিশনের সদস্য অধ্যাপক মাইনুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মীর্জা ইস্কান্দার, মো. হারুন অর রশীদ ও হোসেন আলী মাস্টারসহ অনেকে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হেলাচিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান, গ্রিন কোয়ালিশন নবগ্রাম ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক মাহমুদ হায়দার খোকন, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়ন পরিষদের আহ্বায়ক মো. মনসুর আলী, কথাসাহিত্যিক কল্পনা সুলতানা, এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের নারী উদ্যোক্তা আসমা আক্তার ও মিলা আক্তারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সভায় বক্তারা বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের ব্যবহার কৃষি ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের অভিযোগ, মানিকগঞ্জের বাজারে এখনো প্রশাসনের নজর এড়িয়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ‘প্যারাকুয়েট’সহ বিভিন্ন বিষাক্ত কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে।

বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসনের নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকার পরও কীভাবে এসব অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিষাক্ত কীটনাশক বাজার থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে এসব কীটনাশকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি এবং নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

তারা বলেন, কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, মাটি, পানি ও পরিবেশের সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষকদের নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও তথ্য দিতে হবে।
মানববন্ধন ও আলোচনা সভা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশকের উৎপাদন, বাজারজাত ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।