চুয়াডাঙ্গা, ১০ আগস্ট ২০২৬: সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারও শরীরে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়লে তিনি সরকারি চাকরি পাবেন না বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার নিয়ে উদ্বেগ:
জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সীমান্তবর্তী জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা দিয়ে মাদক পাচারের ঘটনা ঘটছে। মাদকের বিস্তারে শুধু বিক্রেতা বা বাহকরাই নয়, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়ছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি বলেন, মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান:
শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু নির্বাচন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্টের প্রসঙ্গ:
অনুষ্ঠানে সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কারও শরীরে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়লে তিনি সরকারি চাকরি পাবেন না।
তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তরুণদের মাদক থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কেও সতর্ক করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও অভিভাবকরা
মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক পাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।