গোপালগঞ্জ | ১০ আগস্ট ২০২৬: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ১০ আগস্ট থেকে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন। বাংলাদেশ রেলওয়ের উদ্যোগে নতুন এই কমিউটার ট্রেন চালু হলে গোপালগঞ্জসহ এ রুটের বিভিন্ন এলাকার মানুষের রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (পশ্চিম), রাজশাহীর কার্যালয় থেকে জারি করা অফিস আদেশ অনুযায়ী, ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ নামে ১৩৫/১৩৬ নম্বরের এক জোড়া ট্রেন ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে।

রেলওয়ের সময়সূচি অনুযায়ী, ১০ আগস্ট প্রথম দিন ঢাকা থেকে ১৩৬ নম্বর ট্রেনটি দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে গোপালগঞ্জে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই দিন ফিরতি ১৩৫ নম্বর ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে রাজধানীতে পৌঁছাবে।

নতুন এই ট্রেনটি ঢাকা, কেরানীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন হয়ে গোপালগঞ্জে চলাচল করবে। ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটের দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার এবং কমিউটার শ্রেণিতে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের নির্ধারিত ভাড়া ১৪৫ টাকা।
ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে শনিবার। বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্দেশনায় ট্রেন পরিচালনা, টিকিট বিক্রি, ইঞ্জিন ও ক্রু সরবরাহ, কোচ রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

নতুন এই রেলসেবার সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে যাতায়াত খরচ কমে যাওয়া। সড়কপথের তুলনায় কম ভাড়ায় রাজধানীতে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কপথের যানজট এড়িয়ে নির্ধারিত সময়ে ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।

গোপালগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ। ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালুর ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কাজে ঢাকায় যাতায়াতকারী মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

কৃষিপ্রধান এই জেলার জন্যও নতুন রেল যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে পণ্য পরিবহনের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হলে গোপালগঞ্জের শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য দ্রুত ও কম খরচে রাজধানীর বাজারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কম ভাড়ায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নতুন এই ট্রেনটি শুধু যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেই নয়, গোপালগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে সময়সূচি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কিছু প্রত্যাশাও রয়েছে। অনেকে মনে করছেন, সকালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়ার ব্যবস্থা করা হলে অফিস, ব্যবসা ও অন্যান্য কাজে ঢাকায় যাওয়া মানুষ একই দিনে কাজ শেষ করে ফিরতে আরও সুবিধা পেতেন। তাই ভবিষ্যতে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি বিবেচনা করার দাবি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ চালুর মাধ্যমে গোপালগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও এই রেলসেবার সুফল পাবেন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর চালু হতে যাওয়া এই ট্রেন যাতায়াতের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে—এমনটাই প্রত্যাশা গোপালগঞ্জবাসীর।