পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া রেদওয়ান তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই দেশ ও সমাজ নিয়ে ভাবতেন তিনি। পাশাপাশি সাহিত্যের প্রতিও ছিল তার গভীর আগ্রহ।

শিক্ষাজীবন থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত রেদওয়ান তালুকদারের বেশ কয়েকটি লেখা বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তার একাধিক কবিতা যৌথ কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে এবং বইমেলায় সেসব কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
নিজের সাহিত্যচর্চা সম্পর্কে রেদওয়ান তালুকদার জানান, এখনো তার একাধিক কবিতার পাণ্ডুলিপি অপ্রকাশিত রয়েছে। সুযোগ ও সময়ের সঙ্গে সেগুলো পাঠকের সামনে প্রকাশ করার প্রত্যাশা রয়েছে তার।

রেদওয়ান তালুকদারের পারিবারিক পরিবেশও ছিল সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস। তার বাবা নুরুল ইসলাম তালুকদার একজন শিক্ষক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক। তারই ছোট ছেলে রেদওয়ান তালুকদার। তিনি বরিশাল সরকারি বি এম কলেজ থেকে ইতিহাস বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়েও ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

বরিশাল সরকারি বি এম কলেজে অধ্যয়নকালে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন রেদওয়ান। ওই সময়ে বরিশাল সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সংগঠন হিসেবে পরিচিত উত্তরণ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে বেশ কয়েক বছর যুক্ত ছিলেন তিনি। সংগঠনটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের সম্পৃক্ততা আরও বিস্তৃত করেন।

শুধু সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় নয়, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে রেদওয়ান তালুকদারের সক্রিয় ভূমিকা। স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন ‘বাঁধন’-এর বরিশাল সরকারি বি এম কলেজ ইউনিটের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে নিয়মিত রক্তদাতা হিসেবেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে দিনের পাশাপাশি রাতেও বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে গেছেন রেদওয়ান। মানবিক এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছেন।

এছাড়া বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বরিশাল সাহিত্য সংসদের মতো সাহিত্যভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এসব সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত হয়েছে।

সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের এই পথচলায় রেদওয়ান তালুকদার সাহিত্যচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক সেবাকে সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তার এই বহুমুখী কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের প্রতিনিধিরা।

শিক্ষিত ও সচেতন সমাজের পক্ষ থেকে রেদওয়ান তালুকদারের মতো একজন তরুণ, সৎ ও প্রতিভাবান মানুষের সার্বিক সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়েছে।