বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দর এলাকায় প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁদের সঙ্গে থাকা নাতি আহত হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বগুড়া মহানগরীর আটাপাড়া এলাকার বাবুল হাসান (৫০) ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন বিবি। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবুল হাসান মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী জেসমিন বিবি ও নাতিও ছিলেন। এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে একই দিকে চলা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়লে বাবুল হাসান গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা জেসমিন বিবি ও তাঁদের নাতিকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন বিবিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাতি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে গাড়ির চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাঁকে আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার সকালে একই এলাকার বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হন। বাস দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি বাসসও নিশ্চিত করেছে।

ফলে একই দিনে এরুলিয়া এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পরপর এমন দুটি দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয়দের মতে, বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের এরুলিয়া অংশে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।