দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পবিত্র জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে আধুনিক স্থাপত্যের দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদে ধর্মীয় কার্যক্রমের সূচনা হয়। প্রথম জুমায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন।

পৌর শহরের হেলিপ্যাড মাঠ সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত মডেল মসজিদ প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে দুপুরের আগেই মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরের পাশাপাশি আশপাশের স্থানও মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়।

উদ্বোধনী আয়োজনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী, রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ, পৌর বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান আলী, সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী, এমপি প্রতিনিধি জমিরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মিজানুর রহমান মাস্টার, সাবেক মেয়র আলমগীর সরকার এবং জুলাই যোদ্ধা হাবিবসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম জুমার নামাজে ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা মাহাবুব আলম। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত মসজিদে প্রথমবার জুমার নামাজ আদায় করতে পেরে মুসল্লিদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষ দেখা যায়।

স্থানীয় মুসল্লিরা বলেন, রাণীশংকৈলে এমন একটি আধুনিক ও নানামুখী সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন মসজিদের প্রয়োজন দীর্ঘদিনের। মডেল মসজিদ চালু হওয়ায় একদিকে যেমন ধর্মীয় ইবাদতের জন্য সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইসলামিক শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনারও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলা মডেল মসজিদটি কেবল নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

মসজিদটিতে পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক অজু ও নামাজের ব্যবস্থা, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনের আবাসনের সুবিধা রাখা হয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞানচর্চাকে আরও বিস্তৃত করতে রয়েছে ইসলামিক লাইব্রেরি, ইসলামিক বই বিক্রয়কেন্দ্র, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রমের সুযোগ।

এ ছাড়া রয়েছে হেফজখানা, শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা। ফলে শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশেও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অতিথিশালা এবং মৃত ব্যক্তির গোসলের বিশেষ ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য।

ধর্মীয় শিক্ষা, ইবাদত, গবেষণা ও সামাজিক সেবার সমন্বিত অবকাঠামোর কারণে রাণীশংকৈলের এ মডেল মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিয়মিত নামাজ ও ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি ইসলামিক শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, দাওয়াহ এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মডেল মসজিদটি রাণীশংকৈলের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।