ঠাকুরগাঁও | ৬ আগস্ট ২০২৬: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভোমরাদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আকাশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হলেও উজানের ঢলে দ্বিতীয় দফায় গত ৫ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কৃষকের আবাদি জমি তলিয়ে যায়। এতে আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজ ও কালভার্টের সামনে-পেছনে বাড়ি ও দোকান নির্মাণ, পুকুর খনন, উঁচু পাড় তৈরি, চায়না দুয়ারী (জাল) এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে উজানের পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।
স্থানীয় কৃষক ইকবাল আলম (মিঠু) জানান, ভোমরাদহের সরদারপাড়া, মিলন বাজার ও চিলাছাপা এলাকায় জলাবদ্ধতার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ব্রিজ ও কালভার্টের মুখে জমে থাকা প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে চিলাছাপা আশ্রয়ন প্রকল্প (শুচ্ছ গ্রাম)-এর ১৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেখানে চলাচলের জন্য কোনো উঁচু রাস্তা না থাকায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
এছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত ১২টি পরিবারের বাড়ির আঙিনায় পানি প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিফুল ইসলাম বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদানে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।”
স্থানীয়রা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রণয়ন এবং পানিবন্দি পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।