ঠাকুরগাঁও | ৫ আগস্ট ২০২৬: ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে অফিসটির এক রেকর্ড কিপারের বিরুদ্ধে। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পাশাপাশি গোপন ক্যামেরায় টাকা গ্রহণের একটি দৃশ্য ধারণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে আসা মানুষকে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে প্রয়োজনীয় নথি পেতে বিলম্ব এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে খাবার খাওয়ার সময় তার টেবিলে টাকা গ্রহণের দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে একটি অসাধু চক্রের মাধ্যমে ঘুষ ও অনিয়ম চলে আসছে। সরকারি ফি জমা দেওয়ার পরও দ্রুত সেবা পেতে বা নথি সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ ভোগান্তি এড়াতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন। অনেকে ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগও করতে চান না।

এ বিষয়ে অভিযোগের জবাবে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, তিনি অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করেননি। তার দাবি, একজন ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল উত্তোলনের জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি হিসেবে ৪ হাজার টাকা তার কাছে জমা দিয়েছেন, অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওর দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।