চুয়াডাঙ্গা | ৫ আগস্ট ২০২৬ (বুধবার): চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ৮ বীর মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে স্থানীয় শহীদ দিবস (৫ আগস্ট)। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিএনপি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে (৫ আগস্ট) মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নাটুদায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে চুয়াডাঙ্গার ৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা—আবুল কাশেম, হাসানুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, তারেক, আফাজ উদ্দিন, কেয়ামদ্দিন, রওশন ও খোকন—শহীদ হন। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর ৫ আগস্ট নাটুদার আট শহীদের সমাধি (আটকবর) প্রাঙ্গণে স্থানীয় শহীদ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

বুধবার সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে আট শহীদের সমাধিতে পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার, পুলিশ সুপার রুহুল কবীর খান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক আবেছ উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক ও দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাঁজা আবুল হাসনাত, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন, দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব লুৎফর রহমান এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, “শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁদের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ৫ আগস্টের এই দিনটি চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য যেমন বেদনাবিধুর, তেমনি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

কর্মসূচির শেষ পর্বে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।