গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পড়া না পারায় প্রথম শ্রেণির এক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে পেট মুচড়ে ধরা ও শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক মাহাফুজুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিসা আক্তার মায়া (৭) পড়া দিতে না পারায় সহকারী শিক্ষক মাহাফুজুর রহমান মিথুন তার পেটে জোরে চাপ দেন। এতে শিশুটি ব্যথায় কেঁদে ফেলে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শিশুটির অভিযোগ, এর আগেও পড়া না পারায় তাকে শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে শারীরিকভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগী শিশু আনিসা আক্তার মায়া পূর্ব গোপালপুর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে। সংবাদকর্মীদের কাছে শিশুটি অভিযোগ করে বলে, পড়া না পারলে শিক্ষক মিথুন তাকে প্রায়ই এভাবে পেট মুচড়ে ধরেন। রোববার দুপুর ১টার দিকে পড়া দিতে না পারায় শিক্ষক তার পেটে জোরে চাপ দিলে সে ব্যথা সহ্য করতে না পেরে কেঁদে ফেলে।

শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। একদিন পড়া না পারায় তাকে বেঞ্চে শুইয়ে পেটে চাপ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে সে অভিযোগ করে।
ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিদ্যালয়ের অন্যান্য ভালো কাজ ও ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরজুমান আরা গোলেনুর জানান, সহকারী শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মিথুনের বিরুদ্ধে এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশু শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহাফুজুর রহমান মিথুনের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।