বগুড়া | ২ আগস্ট ২০২৬: বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার, গুলি, দেশীয়-বিদেশি ধারালো অস্ত্র, ইয়াবা, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও নগদ টাকাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।
গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার বাঘোপাড়া এলাকায় করতোয়া নদীর বাঁধসংলগ্ন টিএমএসএসের মেহগনি বাগানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে যে রবিউল ইসলাম রকি (৩৩)-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া ও আশপাশের এলাকায় মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া এবং মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে ডিবির একাধিক টিম পরিকল্পিতভাবে মেহগনি বাগানটি ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে রবিউল ইসলাম রকি (৩৩), রাকিব রহমান (২৬) ও রাফি আহমেদকে (১৯) গ্রেফতার করা হয়। তবে তাদের আরও ৬ থেকে ৭ জন সহযোগী অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃতদের দেহ তল্লাশি এবং ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, তিন রাউন্ড গুলি, একটি বার্মিজ টিপ চাকু, একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি ইলেকট্রিক শকার মেশিন, দুটি চাপাতি, দুটি ছোরা, একটি স্টিলের এসএস পাইপ, ২৮৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, নগদ ২০ হাজার ৩০০ টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রবিউল ইসলাম রকির বিরুদ্ধে ছিনতাই, ডাকাতি, হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, অবৈধ অস্ত্রের মহড়া এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলাসহ একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অন্য দুই আসামির বিরুদ্ধেও চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।