রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পথরোধ করে এক যুবককে মারধর, স্মার্টফোন ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার হারিয়ে যাওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ কালু (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ খাইরুল ইসলাম (৩৪) গোদাগাড়ী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী গ্রামের মোঃ খাইরুল ইসলাম মাদারপুর থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে গোদাগাড়ী খাদ্য গোডাউনের সামনে পাকা রাস্তায় পৌঁছালে মাদারপুর এলাকার মোঃ কালু তাঁর পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

জিডিতে খাইরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কালু তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পাশে থাকা সিমেন্টের পিলার দিয়ে তাঁর কপাল ও হাতের কব্জিতে আঘাত করা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের সময় খাইরুল ইসলামের পকেটে থাকা আনুমানিক ৫২ হাজার টাকা মূল্যের একটি গ্যালাক্সি স্মার্টফোন ভেঙে ফেলা হয়।
এ ছাড়া ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তাঁর গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, এবং ৫ আনা ওজনের দুটি আংটি, যার আনুমানিক মূল্য ৭০ হাজার টাকা—ঘটনাস্থলে পড়ে হারিয়ে যায় বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

খাইরুল ইসলামের ডাক-চিৎকার শুনে স্থানীয় মোঃ শিশির, মোঃ জসিমসহ আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় কালু প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় খাইরুল ইসলাম ১ আগস্ট গোদাগাড়ী থানায় জিডি করেন। জিডির ট্র্যাকিং নম্বর PT54G1 এবং জিডি নম্বর ২২।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মোঃ রাকিবুর হাসান রকিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ কালুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।