অসহায়, দরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় গরু বিতরণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (এসডিএস)।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বটতলী (লতিহাটি) এলাকায় এসডিএসের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে গরু তুলে দেওয়া হয়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের অর্থায়নে এবং এসডিএসের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘বৈশ্বিক মহামারীর প্রেক্ষাপটে জেলার প্রান্তিক কৃষক, প্রতিবন্ধী, সুবিধাবঞ্চিত, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাদের আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাঁচবিবি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সামছুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ওবাইদুর রহমান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার, কো-অর্ডিনেটর লিটন, প্রকল্প পরিচালক শরিফুল ইসলাম, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সামছুল ইসলাম বলেন, সরকার বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি আয়বর্ধক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। গবাদিপশু পালন নারীদের জন্য একটি লাভজনক উদ্যোগ, যা পরিবারে স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করতে পারে।

বিশেষ অতিথি ওবাইদুর রহমান বলেন, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের প্রকল্প নারীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সামাজিক মর্যাদা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এসডিএসের নির্বাহী পরিচালক মোছা. আয়েশা আক্তার বলেন, প্রকল্পের মূল লক্ষ্য শুধু সহায়তা প্রদান নয়; বরং উপকারভোগীদের টেকসই আয় নিশ্চিত করে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করা। তিনি উপকারভোগীদের গরু যথাযথভাবে পরিচর্যা করে সফল খামারি হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গরু বিতরণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীরা দুধ উৎপাদন, বাছুর পালন ও গবাদিপশু বিক্রির মাধ্যমে নিয়মিত আয় করতে পারবেন। এতে তাদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য হ্রাসেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

গরু পেয়ে উপকারভোগীরা সরকার, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা এসডিএসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হবে।