কালিয়াকৈর (গাজীপুর) | ৩১ জুলাই ২০২৬ :
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বড়ইবাড়ি এলাকার বাঁশতুলী তুরাগ নদী ও মকশবিলে পিকনিকের নামে নৌকায় মাদক সেবন, উচ্চ শব্দে ডিজে পার্টি এবং অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে নৌকায় ডিজে পার্টির আয়োজনকে কেন্দ্র করে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা, টাঙ্গাইল, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দলবেঁধে তরুণ-তরুণীরা রঙিন নৌকা ভাড়া করে তুরাগ নদীতে পিকনিক করতে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব নৌকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম ও আলোকসজ্জা বসিয়ে রাত পর্যন্ত ডিজে পার্টি চলে। এ সময় প্রকাশ্যে ইয়াবা, মদ ও গাঁজা সেবনের পাশাপাশি অশোভন আচরণ ও অশ্লীল নৃত্যের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দা সিয়াম হোসেন বলেন, “বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এলেই নদীর আশপাশে থাকা কঠিন হয়ে যায়। বিকট শব্দে গান বাজানোর কারণে ঘুমানো যায় না, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হয়। পরিবার নিয়ে নদীর পাড়ে যাওয়াও এখন বন্ধ করে দিয়েছি।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিছু অসাধু নৌকা মালিক মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এসব দলের কাছে নৌকা ভাড়া দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, “বারবার নিষেধ করার পরও তারা কথা শোনে না। প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, কিছুদিন আগে থানা পুলিশের অভিযানে কয়েকটি পিকনিকের ট্রলার আটক করার পর কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। তবে বর্তমানে আবারও পিকনিকের নামে অশ্লীল নৃত্য ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। নদীতে মাদক সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। খুব দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা গোপনে নজরদারি করছি। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশেষ টহল জোরদার করা হবে। মাদক সেবন ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, তুরাগ নদীর পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং যুবসমাজকে রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, নজরদারি বৃদ্ধি এবং নৌকা ভাড়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি।