দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে থাকা চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম। অভিযানে তার সঙ্গে থাকা আরও তিন সহযোগী—আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকেও আটক করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে আটক করা হয়। এ সময় তার তিন সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ডেভিড ইমনকে নিরাপত্তার সঙ্গে সড়কপথে চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা ডেভিড ইমন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ অন্তত ১৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত জোড়া হত্যা এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলারও আসামি তিনি। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে একাধিক চাঁদাবাজি ও ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায়ও তার নাম উঠে আসে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, বড় সাজ্জাদ দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম পরিচালনায় ডেভিড ইমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলেন। তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে আশা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই নগরীর এক্সেস রোড এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম আলোচনায় আসে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোবাইল ফোনে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া চারজনকে চট্টগ্রামে এনে আদালতে সোপর্দ করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।