চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ২৮ জুলাই ২০২৬: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় দীর্ঘ আড়াই মাস ধরে কারাবন্দী থাকা ৭ আসামীর অবিলম্বে জামিন ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সদর উপজেলার সর্বস্তরের এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে একটি সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৭ জনকে আসামি করা হয়। আবেদনকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার সঙ্গে আইনজীবীরা সম্পৃক্ত থাকায় জেলার কোনো আইনজীবী অভিযুক্তদের পক্ষে আদালতে দাঁড়াতে বা আইনি সহায়তা দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে আবেদন করা হলেও এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. তরিকুল আলম মোল্লা, প্রভাষক হুমায়ুন কবির, সমাজসেবক ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক মনিরুল ইসলাম, শরিফুল মণ্ডল ও শামসুজোহা মুকুলসহ অন্যান্যরা।
আবেদনকারীদের দাবি, কারাবন্দী ৭ জনের মধ্যে ৫ জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র ঈদুল আজহাও তাদের কারাগারে কাটাতে হয়েছে, যা পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে দাবি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে কারাবন্দীদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। তারা হলেন— মো. ইমাম হোসেন বাররু (৫০), মো. রমিন (২২), মো. আকিব (১৭), মো. কুইক আলী (১৭), মো. জিদান (১৬), মো. সিফাত আলী (১৬) এবং মো. পরশ (১৬)।
উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৪২ (তারিখ: ১৮ মে ২০২৬), জি.আর. নং-২২৬/২০২৬ (নবাব) হিসেবে মামলাটি রুজু করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে জেলা প্রশাসকের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়, বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্তপূর্বক কারাবন্দীদের দ্রুত জামিন ও মুক্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
উল্লেখ্য, কারাবন্দীদের আইনগত অবস্থান, মামলার অগ্রগতি বা জামিন বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত এবং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতি বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।