কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ এবং পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিমুল সরকার। একই সঙ্গে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। পরবর্তীতে ওই জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দিলরুবা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্তভার এসআই শিমুল সরকারের ওপর অর্পণ করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই ছাড়াই গত ১৪ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ মার্চ মফিজুল ইসলাম ও তাঁর বাবা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমির ফসল নষ্ট করেন এবং হুমকি প্রদান করেন। তবে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, ওই সময় তিনি ও তাঁর স্ত্রী ঢাকায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাই তদন্ত প্রতিবেদনে ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই শিমুল সরকার বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্তে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগকারী পক্ষের একজন ঘটনার দিন ঢাকায় অবস্থানের দাবি করলেও তদন্তে মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তিনি ঘটনাস্থলের এলাকায় অবস্থান করেছিলেন বলে তথ্য মিলেছে।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে এসআই শিমুল সরকার বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তিনি তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন।
তিনি আরও বলেন, যদি তদন্তে কোনো ত্রুটি থেকে থাকে, আদালত তা যাচাই করবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
এসআই শিমুল সরকার জানান, বিষয়টি নিয়ে বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষই শিগগির সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন বলে তিনি জেনেছেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবেন।
এদিকে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলেও অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপরই এখন সবার নজর রয়েছে।