সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ডুমুরপোতা কালিবাড়ি গ্রামে স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রতন সানা (৩০) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মা আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত রতন সানা উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের ডুমুরপোতা কালিবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের মা অমরী রানী সানা অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাত প্রায় ৮টার দিকে তার পুত্রবধূ চন্দ্রা রানী বাছাড় বামনডাঙ্গা গ্রামের অমেদ ঢালী নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়েন।

শনিবার ভোরে রতনের বাবা অজিত সানা মাঠে যাওয়ার আগে ছেলেকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, রতন ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলছেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে রতনকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নিহতের মা আশাশুনি থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ নিহতের স্ত্রী চন্দ্রা রানী বাছাড়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমদ খান বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে আত্মহত্যার পেছনের কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না।