কুড়িগ্রামে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী বাসে হামলা, ভাঙচুর এবং চালকসহ তিন পরিবহন শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন বাস-মিনিবাস শ্রমিকরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা জেলার ব্যস্ততম শাপলা চত্বরে একাধিক বাস থামিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারী থেকে ঢাকাগামী ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস ধরলা ব্রিজ এলাকায় শিল্প ও বাণিজ্য মেলার কাছাকাছি পৌঁছালে কয়েকজন যুবক বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। চালক বাস না থামিয়ে সামনে চলে গেলে ধরলা ব্রিজের টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার সময় ওই যুবকরা বাস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
বাসের চালক পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে বাসটি সরিয়ে নেন। তবে কিছুক্ষণ পর কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ স্কুল মোড় এবং শিল্পকলা একাডেমির সামনে আবারও বাসটি আটকে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।
তাদের দাবি, হামলাকারীরা বাসে থাকা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন। এতে তিনজন শ্রমিক আহত হন।
ঘটনার প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা রাতেই শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন শুরু করেন। এ সময় তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, শিল্প ও বাণিজ্য মেলা থেকে বের হওয়া কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। অন্যথায় আবারও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।
খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে।
মেলা বন্ধের দাবির বিষয়ে ওসি বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
পুলিশের আশ্বাসের পর রাত প্রায় ১২টার দিকে শ্রমিকরা তাদের অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।