কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় পরিচালিত সমন্বিত যৌথ অভিযানে একাধিক হত্যা ও অপহরণ মামলার আসামিসহ মোট ১৭ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার, র্যাব, সিআইসি অফিস এবং উপজেলা প্রশাসন, টেকনাফের সমন্বয়ে প্রায় ২৩০ জন কর্মকর্তা ও সদস্যের অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় অবৈধ অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, অপহরণকারী, চাঁদাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার।
অভিযান চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়াপাড়া ক্যাম্পের এইচ-ব্লকের মাঠসংলগ্ন এলাকায় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডাকাত সাদ্দাম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি জিয়াউর রহমানকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি দেশীয় ওয়ান শুটার গান, ১৬ রাউন্ড কার্তুজ এবং ২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
আটক জিয়াউর রহমানের পিতা আলী আহম্মদ। তিনি নয়াপাড়া (মোচনী) রোহিঙ্গা রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা এবং এমআরসি নম্বর-১৯৬১৩ ধারী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে অপহরণ, অপহরণ-পরবর্তী হত্যা এবং চাঁদা দাবিসহ মোট পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে।
এছাড়া অভিযানে একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি, একটি মাদক মামলার আসামি এবং অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে ১৪ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে মোট ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া খেলার অভিযোগে আটক পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনকল্যাণমূলক সশ্রম কাজে নিয়োজিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন, অপহরণ ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।