সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাশতলা ব্রিজ–ঘোলা খেয়াঘাট–ওয়াবদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া জিপিএস পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চার থেকে পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোড আইডি-২৮৭০৪৪১৬২-এর আওতাধীন এই সড়কটি শ্রীউলা ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। তবে দীর্ঘদিন উন্নয়ন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হয় এবং যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রম, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের মতে, সড়কটি পাকাকরণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং এলাকার সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “বিগত সময়ে শ্রীউলা ইউনিয়নে কাগজে-কলমে উন্নয়নের কথা বলা হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ ছয়টি সড়কের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। ফলে আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা লুৎফর রহমান বলেন, “এটি শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এই সড়কের পাশে চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি ফাজিল মাদ্রাসা, আটটি মসজিদ, তিনটি খেয়াঘাট এবং ৫০ থেকে ৬০টি মুরগির খামার রয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পাকাকরণে মাননীয় সংসদ সদস্যের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।”

শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় দিপু বলেন, “সড়কটি পাকা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকাকরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত উদ্যোগ নিক। তাদের বিশ্বাস, স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শ্রীউলা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।