বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বর্তমান বিশ্বে উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও একক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির সমালোচনা করে বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্র ও সম্পদ যেমন আলো, বাতাস, মাটি ও পানির মতো সব মানুষের জন্য সমানভাবে প্রাপ্য হওয়া উচিত। তার ভাষায়, “আলো, বাতাস, মাটি, পানির মতো রাষ্ট্র ও সম্পদ সবার—একক গোষ্ঠীর নয়, এটাই স্রষ্টার বিধান।”
আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, পৃথিবীর প্রতিটি দেশ এমন হওয়া উচিত যেখানে সব ধর্ম, সব মত ও সব পথের মানুষের সমান নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত থাকবে। তিনি একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত, সহিংসতা, বৈষম্য, বাস্তুচ্যুতি, দারিদ্র্য ও রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ একক ধর্ম বা জাতীয়তাবাদের নামে পরিচালিত গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতি। তার মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা মানবতার জন্য ক্ষতিকর এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অন্তরায়।
ফেসবুক পোস্টে আল্লামা ইমাম হায়াত “মানবতার রাজনীতি” ও “ইনসানিয়াত বিপ্লব” ধারণার কথা তুলে ধরে বলেন, অহিংস, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাজনৈতিক কাঠামোই বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
তিনি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, অন্যায় গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বর্তমান বৈশ্বিক সীমান্তব্যবস্থা সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন। তার দাবি, সীমান্ত মানুষের স্বাধীন চলাচল, জ্ঞান ও সম্পদের স্বাভাবিক প্রবাহকে সীমিত করে। এর পরিবর্তে তিনি মানবিক অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ভিত্তিতে একটি সর্বজনীন মানবিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
আল্লামা ইমাম হায়াতের মতে, প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা মানবজাতির মৌলিক সংকট সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি মনে করেন, স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসা, মানবিক সাম্য ও সর্বজনীন ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মানবতার রাষ্ট্রই বিশ্বকে সংঘাতমুক্ত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে পারে।
উল্লেখ্য, এসব বক্তব্য আল্লামা ইমাম হায়াতের ব্যক্তিগত মতামত ও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।