বাবার মৃত্যুর শোক, পরিবারের দায়িত্ব আর নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন—সবকিছুকে একসঙ্গে সামলে এগিয়ে চলেছে বাগেরহাটের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকন। বাবার দাফন শেষ করে রাতেই কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে চাকরিতে যোগ দেন তিনি। এরপর সকালে হাজির হন এইচএসসি পরীক্ষার হলে।
জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ইকনের অদম্য চেষ্টা ও দায়িত্ববোধের গল্প নজরে এসেছে শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। তার পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) ফারহান ইশতিয়াক জানান, পরীক্ষার সময় ইকন যেন চাকরির চাপ কমিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারেন, সে জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষা শেষে তার উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনেও সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে ইকনের সংগ্রামী জীবনের সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া (৪৬) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওই দিন দুপুরেই তিনি মারা যান। পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
বাবাকে হারানোর পরও থেমে থাকেনি ইকনের জীবনযুদ্ধ। মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইকে নিয়ে বাগেরহাট শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। প্রতি মাসে প্রায় ৪ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয় পরিবারটিকে।
সংসারের খরচ চালাতে ইকন রাতে কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করেন। দিনের বেলায় পড়াশোনা করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালকের চাকরির সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে আসে। পরে দাদা অবসরের পর গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান।
প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার প্রতি ইকনের আগ্রহ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।