শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটকে সঙ্গী করেও থেমে নেই মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার দুই বোন সুপ্রিয়া সিনহা ও প্রিয়ন্তী সিনহা। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগের স্বপ্ন লালন করছেন ছোট বোন প্রিয়ন্তী সিনহা। তার এই সংগ্রামী জীবন এখন এলাকাজুড়ে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সুশীলা রাণী সিনহা দম্পতির দুই কন্যাই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি অফিস সহকারী। বর্তমানে চার সদস্যের পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। সীমিত আয়ের কারণে বড় মেয়ে সুপ্রিয়া সিনহা নিজের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি। তবে নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ছোট বোন প্রিয়ন্তীকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত উৎসাহ, সাহস ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রিয়ন্তী সিনহা মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু কোচিং, বইপত্র, পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রস্তুতির ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে তার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে টিম জার্নালিস্ট। তাদের উদ্যোগে মাওলানা শাহ সৈয়দ রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন এবং মরহুম ডিআইজি জালাল আহমদের পরিবার প্রিয়ন্তীর শিক্ষাজীবন ও বিসিএস প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সহযোগিতা তার স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা পেলে প্রিয়ন্তী আরও ভালোভাবে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। তার একমাত্র লক্ষ্য শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক অবদান রাখা এবং সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মেধা, অধ্যবসায় ও ইচ্ছাশক্তির কাছে বাধা হতে পারে না। সুপ্রিয়া ও প্রিয়ন্তী সিনহার সংগ্রামী জীবন সেই বাস্তবতারই উজ্জ্বল উদাহরণ। যথাযথ সহায়তা পেলে প্রিয়ন্তীর মতো মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
সহযোগিতায় আগ্রহীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন: ০১৭৪৫৯৩৯৪৪৮।