গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২৩ নম্বর চরপুখরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিয়মিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ঝাড়ু দেওয়ানো হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা বিভাগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরের আগে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ঝাড়ু দিচ্ছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন নিজেদের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শিক্ষকদের নির্দেশে তাদের নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজ করতে হয়।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রায়ই শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতার কাজ করানো হয়। এতে তারা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে পড়াশোনার পরিবর্তে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হয়। অভিভাবকদের ভাষ্য, এ ধরনের কাজ শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবেও প্রভাবিত করতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিপু দে বলেন, বিদ্যালয়ে এমএলএসএস (অফিস সহায়ক/পরিচ্ছন্নতাকর্মী) পদে কোনো কর্মচারী নেই। ফলে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তিনি বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে এমএলএসএস নেই। নিজেদেরই সব কাজ করতে হয়। শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়ার বিকল্প কোনো উপায় নেই। বিষয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অবগত আছেন। তিনি বিদ্যালয়ে এসে দেখেছেন। আমার মতে এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো বিধিমালা লঙ্ঘন হচ্ছে না।”

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীনেশ চন্দ্র টিকাদার। তিনি বলেন, “ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়ানো হচ্ছে—এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিধিমালা লঙ্ঘন করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অনুচিত। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষাবিদদের মতে, বিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা এবং স্বেচ্ছায় অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম এক বিষয়, আর নিয়মিত শ্রমমূলক কাজ করানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব।