জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ৮নং আওলাই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে আবারও নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. লাভলী বেগম।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি ওয়ার্ডজুড়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি বিগত পাঁচ বছরে সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার পাশাপাশি অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করতে পুনরায় নির্বাচিত করার জন্য ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।
লাভলী বেগম উপজেলার শিরতা গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। স্থানীয়ভাবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে লাভলী বেগম সর্বোচ্চ প্রায় ২ হাজার ১শ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। তার উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাট সংস্কার, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং কালভার্ট নির্মাণের কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে।
এছাড়া বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি ও ভিজিএফসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণের চেষ্টা করেছেন বলেও জানান। নারী সমাজের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
লাভলী বেগম বলেন, “আমি জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেছি, শাসক হিসেবে নয়। গত পাঁচ বছরে মানুষের পাশে থেকে যতটুকু সম্ভব উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। তবে এখনও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাকে আবারও নির্বাচিত করলে অসমাপ্ত রাস্তা, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করবো। প্রতিটি ওয়ার্ডকে বাল্যবিবাহ ও মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবো। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি সেবা যেন কোনো গরিব মানুষ হয়রানি ছাড়া পায়, তা নিশ্চিত করতে কাজ করবো। মা-বোনদের স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
স্থানীয় নারী ভোটারদের অনেকে জানান, লাভলী বেগম একজন শিক্ষিত, ভদ্র ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি। সুখে-দুঃখে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়ান এবং নারীদের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেন। তাই আগামী নির্বাচনেও তাকে পুনরায় নির্বাচিত করার বিষয়ে তারা আশাবাদী বলে জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এখনও পরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেনি। ফলে প্রার্থীদের এ ধরনের প্রচার-প্রচারণা মূলত সম্ভাব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে।