রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর | ১৭ জুলাই ২০২৬: টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঁচাবাজারে সবজি, মাছ, মুরগিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। শশার দাম ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, শিম ৮০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া করলা ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গাজরের কেজি ৭০ টাকা এবং শশা ৮০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হলেও লেবুর দাম কিছুটা কম রয়েছে।

শুধু সবজিই নয়, মাছ ও মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। দুই কেজি ওজনের কাতলা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ ৪২০ থেকে ৪৭০ টাকা, ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৭০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দামও ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকা কেজির মধ্যে রয়েছে।

বাজার করতে আসা ক্রেতা মো. সাহেদ বলেন, “প্রতিদিনই বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যে টাকা নিয়ে বাজারে আসি, তাতে প্রয়োজনীয় সবজি কেনাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সংসার চালানো এখন খুব কষ্টের। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”

সবজি বিক্রেতা মো. মাইনুদ্দিন সবুজ জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যাপ্ত সবজি বাজারে আসছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে এবং তার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

মাছ ব্যবসায়ী ঈমান হোসেন, দেলোয়ার ও লক্ষণ মজুমদার বলেন, বর্ষাকাল হলেও মাছের দাম কমেনি। পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য রয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টানা বৃষ্টির কারণে দ্রুত দাম কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয়দের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।