সুনামগঞ্জ | ১৭ জুলাই ২০২৬ : সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র রথযাত্রা উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে শহরের মধ্যবাজারে অবস্থিত শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ শোভাযাত্রায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো ভক্ত, সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বিকেল ৪টায় জগন্নাথ জিউর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পুরো শোভাযাত্রাজুড়ে ভক্তদের ধর্মীয় সঙ্গীত, কীর্তন ও উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে সুনামগঞ্জ শহর।
শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপশ শীল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের প্রতিনিধি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী, সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সালাদিন রাজা চৌধুরী, শ্রী শ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় তালুকদার বিজ, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা বিএনপির সদস্য ও জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট দিংপঙ্কর বণিক সুজিত, নারী নেত্রী আরতি তালুকদার কলি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বিমান কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ পদ দাস, সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ রায় বাপ্পী, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সুহেল আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক কালারচাঁন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল কাশেম দুলু, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম পলাশসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপশ শীল বলেন, “সারা বাংলাদেশের সঙ্গে তুলনা করলে সুনামগঞ্জ সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এই সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
আয়োজকরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে। এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সামাজিক সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।