চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত অবহেলার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভেঙে পড়া সীমানা প্রাচীর দিয়ে অবাধে লোকজনের যাতায়াত এবং মহাসড়কের পাশে হেলে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুলিশ ফাঁড়ির পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর দীর্ঘদিন আগে ধসে পড়লেও এখনো তা পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার করা হয়নি। ফলে যে কেউ সহজেই ফাঁড়ির অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারছেন। স্থানীয়দের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিরাপত্তা স্থাপনার সীমানা দীর্ঘদিন খোলা থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কে যানবাহন তল্লাশি, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান, পলাতক আসামি গ্রেপ্তারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি। অথচ সেই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে মহাসড়কের পাশে থাকা সামনের সীমানা প্রাচীরও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালটি একদিকে হেলে রয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় দেয়ালটি ধসে পড়ে পথচারী কিংবা চলন্ত যানবাহনের ওপর পড়ে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন,
“আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো অবগত নই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে হবে।”
ফাঁড়ির এসআই জিয়াউল হুদা জানান,
“ভাঙা সীমানা প্রাচীর সংস্কারের জন্য প্রশাসনিকভাবে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ বা কার্যকর উদ্যোগ পাওয়া যায়নি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে অবকাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় একদিকে পুলিশ ফাঁড়ির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে জনসাধারণও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে।
তাদের দাবি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত ভাঙা সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণ, ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।