চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির জেরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীকে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে “ডেবিড ইমন” পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানের মালিককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইনের মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অফিসে প্রবেশ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার সময় অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ লুট করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি ও লুট হওয়া সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় চকবাজার থানা পুলিশ, সিএমপির একাধিক বিশেষ টিম এবং র্যাব-৭ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাই, চোরাচালান, মানবপাচার এবং দ্রুত বিচার আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিএমপি আরও জানিয়েছে, একজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান থাকায় তদন্তের স্বার্থে তার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি।