জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মালিদহ গ্রামের অসহায় বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে নিয়ে প্রকাশিত মানবিক সংবাদ প্রকাশের পর তার পাশে দাঁড়িয়েছেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জিয়াউল ফেরদৌস রাইট।
এর আগে “বৃষ্টি আসলেই আতঙ্ক: ভিজে রাত কাটে ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারার” শিরোনামে বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানবিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে মালিদহ গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তফার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের দুর্বিষহ জীবনসংগ্রামের চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরের ছাউনি দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ায় তাকে রাতভর ভিজে থাকতে হতো।
সংবাদটি প্রকাশের পর বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জিয়াউল ফেরদৌস রাইট নিজে মনোয়ারা বেগমের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘরের ছাউনি মেরামতের জন্য এক বান্ডিল ঢেউটিন প্রদান করেন।
জিয়াউল ফেরদৌস রাইট বলেন, “পত্রিকায় খবরটি দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। একজন মা যখন বৃষ্টিতে ভিজে রাত কাটান, তখন সমাজের বিত্তবানদের নীরব থাকা উচিত নয়। মনোয়ারা চাচী আমার মায়ের বয়সী। তার মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাউনির ব্যবস্থা করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমি নির্বাচনে জয়ী হই বা না হই, মানুষের সেবায় পাশে থাকব।”
ঢেউটিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবা, অনেকদিন ধরে বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ত। রাতভর বসে থাকতে হতো। কেউ খোঁজ নেয়নি। খবর প্রকাশের পর তুমি এলে। আল্লাহ তোমার ভালো করুক। এখন আর বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে মনোয়ারা বেগম চরম দারিদ্র্যের মধ্যে একা বসবাস করছেন। তার ভাঙাচোরা ঘরটি দীর্ঘদিন ধরেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ রাজু, পাঁচবিবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সজল কুমার দাস, সমাজসেবক আলহাজ্ব মেদেহী হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়রা জিয়াউল ফেরদৌস রাইটের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের উদ্যোগ অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।