গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন মামলার বাদী ইয়াসিন হোসেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দৈনিক আমার দেশ ও ডেইলি পোস্ট-এর কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে করা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে ইয়াসিন হোসেন বলেন, গত ৬ জুলাই কোটালীপাড়া উপজেলার শিকির বাজার স্কাউট ভবন থেকে পূর্ব চিত্রাপাড়া পর্যন্ত সড়কের রক্ষণাবেক্ষণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ৭ জুলাই গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেন।
তিনি বলেন, “আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, মামলাটি ছিল ভুল বোঝাবুঝির ফল। সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তাই আমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ গ্রহণ করছি।”
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের সঙ্গে তাঁর কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অর্থ দাবি বা আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই দৈনিক আমার দেশ-এর অনলাইন সংস্করণে “কোটালীপাড়ায় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, কার্পেটিং উঠে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কের নিম্নমানের নির্মাণকাজ, কার্পেটিং উঠে যাওয়া এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
পরদিন ৭ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড-এর স্থানীয় প্রতিনিধি ইয়াসিন হোসেন সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন
।
তবে মামলার এক সপ্তাহের মাথায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সেই মামলাকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন বাদী। তিনি জানান, আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কারণে দায়ের হওয়া মামলার প্রত্যাহারের ঘোষণা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং তথ্য প্রকাশের অধিকারের প্রতি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।