চট্টগ্রাম | ১৪ জুলাই ২০২৬: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি প্রাইভেটকার থেকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি (LG) অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ধাওয়া শেষে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুদ্দিন হাসান। তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চুনতি পুলিশ চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তল্লাশির সময় ঢাকা মেট্রো-গ-১৭-৩০৬৫ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক সেটি অমান্য করে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে এসআই মাইনুদ্দিন হাসান সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তাৎক্ষণিক ধাওয়া শুরু করেন।
একপর্যায়ে চুনতি সরকারি মহিলা কলেজের প্রধান ফটক ও চুনতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের গেটসংলগ্ন এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি অস্ত্র গাড়ির বাইরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের তৎপরতায় ঘটনাস্থল থেকেই অস্ত্র দুটি উদ্ধার করা হয় এবং প্রাইভেটকারসহ তিনজনকে আটক করে লোহাগাড়া থানায় নেওয়া হয়।
থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মালিকানা অস্বীকার করেন। পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা স্বীকার করেন যে, অস্ত্র বহনের ঘটনায় তারা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিলেন এবং এর বিনিময়ে কমিশন পাওয়ার কথা ছিল। তবে অস্ত্রের প্রকৃত মালিক কারা এবং কোথা থেকে অস্ত্র আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট তথ্য দেননি।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—
হোসাইন আহম্মেদ (৪২), পিতা: মৃত রব পাটোয়ারী। স্থায়ী ঠিকানা: রামগতি, লক্ষ্মীপুর। বর্তমান ঠিকানা: পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা।
আয়াত উল্লাহ (২৮), পিতা: আবদুস শুক্কুর। বাড়ি: বদরখালী ইউনিয়ন, চকরিয়া, কক্সবাজার।
মো. আসাদুজ্জামান (৩৮), পিতা: নবী হোসেন। বাড়ি: ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ। তিনি প্রাইভেটকারটির চালক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুটি দেশীয় এলজি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অস্ত্রের উৎস, সম্ভাব্য ক্রেতা-বিক্রেতা, সরবরাহকারী এবং সংঘবদ্ধ অস্ত্র চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
লোহাগাড়া থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুনতি চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ, এসআই মাইনুদ্দিন হাসানের নেতৃত্ব এবং সঙ্গীয় ফোর্সের পেশাদারিত্বের ফলে ধাওয়া শেষে সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।