সাতক্ষীরা | ১২ জুলাই ২০২৬: সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ নিরসনে কোলা-ঘোলা ত্রিমোহনায় প্রস্তাবিত থ্রি-নোজ সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুর রউফ।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি কোলা-ঘোলা ত্রিমোহনা ও কল্যাণপুর এলাকায় সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার অন্তত ৭ থেকে ৮টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ প্রতিদিন নদী পারাপার, খেয়া নৌকার ওপর নির্ভরতা এবং দীর্ঘ বিকল্প সড়কপথের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হন। জরুরি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজে এই দুর্ভোগ আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বর্ষা মৌসুমে খেয়া পারাপারের ঝুঁকি স্থানীয়দের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্যে সেতু সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, জনগণের প্রয়োজন ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের ডিও লেটারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও কোলা-ঘোলা ত্রিমোহনায় সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই বাস্তবতা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য এ পরিদর্শন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। যে স্থানে সেতু নির্মাণ করলে সবচেয়ে বেশি মানুষ উপকৃত হবেন, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত সেতুর দৈর্ঘ্য দেড় কিলোমিটার বা তার বেশি হলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। আর এর কম হলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) মাধ্যমে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে।
এ সময় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস. এম. হেদায়েতুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (ফাইন্যান্স) শেখ আব্দুস সামাদ, আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু, থানার অফিসার ইনচার্জ শামীম আহমদ খান, উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু মুছা তারিকুজ্জামান তুষার, নায়েবে আমীর আলহাজ মাওলানা নুরুল আফছার মোর্তজা, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আবু দাউদ ঢালী, শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপঙ্কর বাছাড় দিপু, উপজেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল কুদ্দুস, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আব্দুর রশিদ ও আব্দুল আলিম, সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা রিয়াছাত আলী, অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, প্রতাপনগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান, শ্রীউলা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা লুৎফর রহমান, বুধহাটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, শ্রীউলা বিএনপির সভাপতি রফিকুজ্জামান ছট্টু, আশাশুনি বাজার কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন প্রিন্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, কোলা-ঘোলা ত্রিমোহনায় প্রস্তাবিত সেতুটি বাস্তবায়িত হলে আশাশুনি ও শ্যামনগরের দুর্গম এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর হবে। একই সঙ্গে উপজেলা সদর, সাতক্ষীরা জেলা শহর এবং খুলনা-যশোর অঞ্চলের সঙ্গে সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।