কুমিল্লা | ১২ জুলাই ২০২৬: কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের অবস্থা, ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত এবং ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে নিমসার এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বাড়ির ভাড়াটিয়া লুৎফুর রহমানের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোহাম্মদ ইব্রাহিম একই এলাকার সরু হাজির বাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একটি মিনি পিকআপের চালক ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় প্রায় ছয় থেকে সাত মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ইব্রাহিম। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে নিমসারের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হতো বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুরে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা তীব্র দুর্গন্ধ অনুভব করলে বিষয়টি বাড়ির মালিককে জানান। পরে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে ফাঁড়ির ইনচার্জ সরজিৎ বড়ুয়া ও উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।
উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনাস্থলের আলামত এবং মরদেহের অবস্থার কারণে হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ জোরালো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগম নিখোঁজ রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।