যশোর | মণিরামপুর | ১২ জুলাই ২০২৬:
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে পরিচালিত প্রত্যয় সমবায় সমিতি ও নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে প্রায় ১২ কোটি টাকা আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই সমিতির প্রায় ৪ শতাধিক সদস্যের সঞ্চিত অর্থ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি আত্মগোপনে রয়েছেন।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যয় সমবায় সমিতির পরিচালক প্রশান্ত (প্রভাসিন্ধু) বিশ্বাস (সেন্টু), হিসাবরক্ষক মধুসূদন মন্ডল এবং নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালক সনজিৎ বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন মেয়াদি ডিপিএস, সঞ্চয় ও আমানত প্রকল্পে সদস্যদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৬ থেকে ৭ বছর ধরে দুই সমিতি এলাকায় সঞ্চয় সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, চলতি মাসের ২ জুলাই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর প্রত্যয় সমবায় সমিতির পরিচালক প্রশান্ত (সেন্টু) বিশ্বাসের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ৫ জুলাই নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির পরিচালক সনজিৎ বিশ্বাস পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, প্রত্যয় সমবায় সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মন্ডল নিয়মিত অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। তবে জমাকৃত অর্থের একটি অংশ সদস্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুসূদন মন্ডল বলেন, তিনি কেবল মাঠপর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন এবং পরে তা জমা দিতেন।
গত ৭ জুলাই সকালে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এবং তাদের কষ্টার্জিত অর্থ ফেরতের দাবি জানান। এ সময় কয়েকজন সদস্য কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং একজন নারী সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রত্যয় সমবায় সমিতির ৩ শতাধিক সদস্যের প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং নবজীবন কৃষি সমবায় সমিতির শতাধিক সদস্যের প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
প্রশান্ত (সেন্টু) বিশ্বাসের বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে তাদের আমানতের অর্থ উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহির দায়ান আমিন জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিত দাস বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, কয়েকজন অভিযোগকারীর নাম সমিতির চূড়ান্ত সদস্য তালিকায় পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, পরিচালনা পর্ষদকে সদস্যদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।