জয়পুরহাট | ৯ জুলাই ২০২৬: বৃষ্টি নামলেই আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন জয়পুরহাটের ৭০ বছর বয়সী বিধবা মনোয়ারা বেগম। চারচালা জরাজীর্ণ ঘরের ফুটো টিন দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ে। ফলে প্রতিটি বর্ষার রাতই তার কাছে এক দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের মালিদহ গ্রামের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগমের জীবনের গল্প যেন দুঃখ-কষ্টের এক দীর্ঘ অধ্যায়। প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামী মোস্তফার মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে সংগ্রাম শুরু হয় তার। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোভাবে সংসার চালাতেন তিনি।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে মিল্টন বড় হয়ে ভ্যানচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ছেলেকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছিলেন মনোয়ারা। কিন্তু সেই স্বপ্নও ভেঙে যায় নির্মমভাবে। একদিন ভ্যান নিয়ে কাজে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি মিল্টন। পরে খবর আসে, দুর্বৃত্তরা ভ্যান ভাড়া নিয়ে তাকে হত্যা করেছে।

ছেলের মৃত্যুর পর একমাত্র মেয়েকে কষ্ট করে বিয়ে দিতে গিয়ে শেষ সম্বল পৈতৃক জমিটুকুও বিক্রি করতে হয়। বর্তমানে মাসে মাত্র ৫০০ টাকার বিধবা ভাতা এবং অন্যের বাড়িতে থালা-বাসন ধোয়ার সামান্য আয়েই চলছে তার জীবন। বয়সের ভারে এখন আগের মতো কাজও করতে পারেন না।

সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে মনোয়ারা বেগম বলেন, “বাবা, আমার কিছু লাগবে না। শুধু বৃষ্টির দিনে মাথার ওপর একটা ভালো ছাউনি থাকলেই হবে। পুরাতন টিন পেলেও বেড়া দিতে পারব। তাহলে আর ভিজে রাত কাটাতে হবে না, নিশ্চিন্তে একটু ঘুমাতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “আগের মতো কাজ করতে পারি না। এই সামান্য টাকায় সংসারও চলে না, আবার ওষুধও কিনতে হয়।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মনোয়ারা বেগম। বর্ষা মৌসুমে তার বসতঘরটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। দ্রুত সরকারি বা বিত্তবানদের সহায়তা পেলে অন্তত মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি আশ্রয় নিশ্চিত হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশপিয়া তাসরিন বলেন, “তিনি আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা যাবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা, অসহায় এই বৃদ্ধার পাশে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরাও এগিয়ে আসবেন।