হাটহাজারী, চট্টগ্রাম | ৭ জুলাই ২০২৬: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং হালদা নদীতে জোয়ারের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য প্লাবন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মির্জাপুর ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ।
ইউনিয়ন পরিষদের ঘোষণায় জানানো হয়েছে, দুর্যোগকালীন সময়ে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও মির্জাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মঙ্গলবার থেকেই আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খোলা রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানকারীদের সঙ্গে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশু খাদ্য এবং জরুরি ব্যবহার্য সামগ্রী নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের বড় দিঘীরপাড় এলাকায় তীব্র পানির স্রোত সৃষ্টি হয়েছে। হাটহাজারী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও সড়কে হাঁটুপানি জমেছে। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় জমে থাকা পানিতে স্থানীয়দের মাছ ধরতেও দেখা গেছে।
পৌরসভার জনবহুল কামালপাড়া এলাকাতেও হাঁটুপানি জমে বাসিন্দাদের চলাচল ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিচু সড়কের কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত স্থায়ী ড্রেনেজ উন্নয়ন ও সড়ক উঁচু করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, টানা বর্ষণের মধ্যে হালদা নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ায় নদীর পূর্ব তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে জোয়ারের পানি বসতবাড়ি ও সড়কে প্রবেশ করে প্লাবন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রয়োজন হলে আরও আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং দুর্যোগ-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।