প্যারিস, ফ্রান্স | ৬ জুলাই ২০২৬:
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দিন দিন আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। স্পেন সীমান্তসংলগ্ন পিরেনিজ-ওরিয়ঁতাল অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন সোমবার আরও বিস্তৃত হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং ঘণ্টায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা দমকা বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
এ পর্যন্ত অন্তত ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আরও এলাকা খালি করার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রশাসন।
দাবানলে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা, যা শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে ৭৫০ জনের বেশি দমকলকর্মী, প্রায় ২০০টি অগ্নিনির্বাপণ যান, ৯টি পানিবাহী বিমান এবং একাধিক হেলিকপ্টার কাজ করছে। তবে প্রবল বাতাসের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ বলেছেন, মানুষের জীবন রক্ষা এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং বনাঞ্চলে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর দে ফ্রান্সেও। নিরাপত্তার স্বার্থে একটি স্টেজের ফিনিশিং এলাকায় দর্শকদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছর ফ্রান্সে দাবানলের মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের আগেই শুরু হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের আরেকটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
ফরাসি আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগতে পারে।